কয়রা প্রতিনিধিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলার আদালতের নির্দেশে জিম্মায় থাকা ১৮ বিঘা জমির ধান প্রভাবশালী একটি পক্ষ কেটে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকাল ১০টায় কয়রা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রদীপ মন্ডল।
কয়রা উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের প্রদীপ মন্ডল লিখিত বক্তব্যে জানান, আমাদের বেজপাড়া বিলের আমাদের পৈত্রিক ১৮ বিঘা জমি আছে। আমাদের জমিতে আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমন ধান লাগিয়েছি। বেজপাড়া গ্রামের
জামাল সরদারের পুএ সিরাজুল ইসলাম,মৃত মোফাজ্জল ঢালীর পুএ নোমান ঢালী,জামাল সরদারের পুএ খলিল সরদার, মৃত জামাল ঢালির পুএ মকিম ঢালী ,তোফাজ্জেল ঢালী,তকিম ঢালীরা আমাদের জমির ধান কেটে নেওয়ার জন্য পায়তারা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রদীপ মণ্ডল বলেন, ” আমরা হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে ধান চাষ করেছি। কিন্তু তারা সেই ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ধান রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেছি যার মামলা নং (২৪৯/২৫) আদালত আমার মামলাটি আমলে নিয়ে বাগালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ধান জিম্মায় রেখে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সিরাজুল ইসলাম তদন্ত করতে গেলে আমি সকল প্রমাণাদিত তাকে দেখায় এসময় আমাদের প্রতিপক্ষরা ভূমি কর্মকর্তা সামনে আমাদেরকে মারপিট করতে উত্তপ্ত হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তদন্তের পরের দিন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের মোটরসাইকেল ড্রাইভার ইয়াছিন আমাদের বাড়িতে আসেন তিনি এসে আমাকে বলেন, নায়েব স্যার পাঠিয়েছেন স্যার বলেছে প্রতিবেদন আপনার পক্ষে দেবে ৫০ হাজার টাকা আমার কাছে দিতে বলেছে। আমার স্ত্রীর মা মারা যাওয়ার কারণে আমি টাকার জোগাড় করতে না পেরে আমিও আমার স্ত্রী নায়ক সাহেব বাসায় গিয়ে দেখি আমাদের প্রতিপক্ষরা তাহার সামনে বসা আছে এ সময় আমি আমার স্ত্রী নায়ক সাহেবের পা জড়িয়ে ধরে বলি স্যার আপনি কি আমাদের রিপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন আপনাদের প্রতিবেদন দিতে এখনো বাকি আছে। বলে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমরা আদালতে না রাজির আবেদন জমা দিয়েছি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় এখন ধান কেটে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে,প্রশাসনকে আমরা ম্যানেজ করেই ফেলেছি কে ধান লাগিয়েছে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয় যে আমাদের কাজে বাঁধা দিবে তার লাশ পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে প্রদীপ মণ্ডল আরও বলেন, আদালত আমাদের না রাজিটা গ্রহণ করে পুনরায় তদন্ত দিয়ে আমাদের রোপনকৃত ধান নিরাপদে ঘরে তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply